স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির উপায় | অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের ঔষধ

স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির উপায় | অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের ঔষধ

 

অবিবাহিত ছেলেদের জন্য বিরক্তিকর একটা সমস্যা হচ্ছে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া। যদিও  শরীরের জন্য এটি মোটেও ক্ষতিকর কিছুই না। মাসে ৩ থেকে ৪ বার স্বপ্নদোষ হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। এমনটি হলে ঘাবড়ানোর কিছুই নেই। কিন্তু এর বেশি হলে ডাক্তাররা এটিকে সমস্যা বলে মনে করেন। অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ একজন পুরুষের জন্য অনেক বড় ধরনের সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে।


আজকের এই  পোস্টে স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির উপায়  সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। সেই সাথে   অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের ঔষধ সম্পর্কেও সম্যক ধারণা দেওয়া হয়েছেএই লেখাটি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে বলে আমি আশা করি। লেখাটি পড়ে স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির উপায় জেনে আপনার ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োগ করে স্বপ্নদোষ নামক বিরক্তিকর জিনিস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। তাছাড়া এই সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রত্যেকটা সচেতন বালকের জন্য অপরিহার্য।


স্বপ্নদোষ কী :


স্বপ্নদোষ হচ্ছে ঘুমের মধ্যে পুরুষের লিঙ্গ উত্তেজিত হয়ে আপনাআপনি বীর্যপাত হয়ে যাওয়া। অনেকের আবার লিঙ্গের উত্থান ছাড়াও স্বপ্নদোষ হয়ে থাকে। সাবালক হওয়ার পর থেকেই সাধারণত এরকমটা হয়ে থাকে। অবিবাহিতদের জন্য মাসে ৪ বার স্বপ্নদোষ হওয়া অস্বাভাবিক কিছুইনা। কিন্তু এর বেশি হলে শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ


অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ শরীরের কী ক্ষতি করে:


মানুষের মাঝে ভ্রান্ত একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে, স্বপ্নদোষের ফলে শরীর স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল  এবং এটির কোনো যুক্তিসংগত ভিত্তি নেই। ঘুমের মধ্যে মাঝেমাঝে আপনাআপনি বীর্যস্খলন হয়ে যাওয়া অতি সাধারণ একটা ব্যাপার। তবে এটা মাত্রারিক্ত হলে এবং দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শরীর স্বাস্থ্যের জন্য অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যেমন:

  •  শারীরিক দুর্বলতা,

  •  মাথা ব্যথা, 

  •  ঝিমুনি ভাব,

  • চোখে ঝাপসা দেখা, 

  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, 

  • বীর্য পাতলা হয়ে যাওয়া,

  • লিঙ্গের শিথিলতা, 

  • লিঙ্গের গোড়া চিকন হয়ে যাওয়া, 

  • লিঙ্গের বক্রতা, 

  • লিঙ্গের উত্থান সমস্যা, 

  • দ্রুত বীর্যপাত সমস্যা সৃষ্টি হওয়া, 

  • বন্ধ্যাত্ব, 

  • গিরায় গিরায় ব্যথা, 

  • ক্ষুধামন্দা,

  • কাজে মন না বসা, 

  • কর্মে ক্লান্তি, 

  • বসা থেকে উঠে দাঁড়ালে চোখে অন্ধকার দেখা, 

  • গাল ভেঙে যাওয়া, 

  • রাতে ঘুম না আসা

অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ কেন হয়:

 

আমাদের নিজেদের কিছু অভ্যাসগত কারণেই মূলত এই অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হয়ে থাকে। যেমন:

  •  সবসময় যৌনতা নিয়ে চিন্তা বা কল্পনা করলে,

  • যৌন উত্তেজক নাটক সিনেমা দেখলে, 

  • অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করলে, 

  • বীর্য পাতলা হয়ে গেলে, 

  • রাতে ঘুমানোর আগে চটি গল্প পড়া, 

  • পর্ণমুভি দেখে ঘুমাতে যাওয়া, 

  • বান্ধবীদেরকে নিয়ে যৌন কল্পনা করা, 

  • লিঙ্গের দুর্বলতা, 

  • স্নায়ুবিক দুর্বলতা, 

  • চিৎ হয়ে ঘুমানো, 

স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির উপায়:

 

প্রথমেই ঔষধ পত্রের দিকে না গিয়ে ঘরোয়া কিছু জীবন যাপন পদ্ধতি অনুসরণ করলে অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির জন্য প্রতিদিন যে কাজগুলো আপনাকে করতে হবে সেগুলো হলো -


১) প্রস্রাব করে নেওয়া:

ঘুমন্ত অবস্থায় প্রস্রাবের চাপ থাকলে স্বপ্নদোষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই প্রস্রাব করে প্রস্রাবের থলি খালি করে নিবেন। দেখবেন স্বপ্নদোষ হচ্ছে না। 


২) ভালো চিন্তা করুন:

দিনের বেলায় আপনি যা কিছু নিয়ে কল্পনা করেন ঠিক সেগুলোই রাতের বেলায় ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন আকারে দেখা দেয়। তাই যৌনতা নিয়ে বেশি বেশি চিন্তা কল্পনা করবেন না। তাহলে রাতে স্বপ্নদোষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। 


৩) ঘুমানোর আগে হাঁটাহাঁটি:

রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করলে স্বপ্নদোষ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। তাই রাতে খাওয়া দাওয়ার পর সাথে সাথে শুয়ে পড়বেন না। একটু হাঁটাহাঁটি করে তারপর ঘুমাতে যাবেন।  নিয়মিত হালকা একটু শারীরিক ব্যায়াম, যোগ ব্যায়াম বা মেডিটেশন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 


৪) মন ভাল রাখুন :

গুলোর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে সবসময় মন ভাল রাখা। ঘুমাবার আগে অবশ্যই মন ভাল রাখার চেষ্টা করুন। এমন কিছু করুন যেগুলো মনে শান্তি আনয়ন করে। যেমন নামাজ , দান খয়রাত , প্রতিবেশীর খোঁজ খবর নেওয়া ইত্যাদি। এইসব কাজগুলো প্রতিদিন করে যান দেখবেন স্বপ্নদোষের জন্য ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। 


৫) নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন:

স্বপ্নদোষ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চাইলে প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে।সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বাসস্থান, শয়নকক্ষ , আসবাবপত্র পরিপাটি করে রাখতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঢিলাঢালা পোশাক পরিধান করে রাতে ঘুমাতে যাবেন। এমন পোশাক পড়ে ঘুমাতে যাবেন না যা আপনাকে যৌন সুড়সুড়ি দেয়। 


৬) অশ্লীল ভিডিও দেখা :

 আপনি যদি স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তি পেতে চান  তাহলে দিনের বেলায় হোক কিংবা রাতের বেলায় হোক অশ্লীল পর্ণগ্রাফি মুভি দেখা যাবে না। চটি গল্প পড়বেন না। সবসময় যৌনতা নিয়ে কল্পনা করবেন না। বিশেষকরে রাতে ঘুমানোর আগে কোনো অবস্থাতেই যৌন উত্তেজনামুলক কোনো ভিডিও দেখা যাবে না। প্রতিদিন যতটুকু সম্ভব কোরআন হাদিস পড়ার অভ্যাস করুন, এবং ইসলামিক ওয়াজ নসিহতমূলক ভিডিও দেখুন । দেখবেন স্বপ্নদোষ হচ্ছে না। 


৭) অতিরিক্ত পানি পান:

ঘুমানোর আগে বেশি পরিমাণে পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ প্রস্রাবের লক্ষণ থাকলে পুরুষাঙ্গ শক্ত হয়ে উঠে , ফলে স্বপ্নদোষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঘুমের মধ্যে তলপেটে প্রস্রাবের অনুভূতি আসার সাথে সাথে উঠে প্রস্রাব করুন । 


৮) ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা :

ঘুমানোর আগে ওযু করে পবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যাবেন। নিজেকে পুত পবিত্র রাখলে স্বপ্নদোষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। সুরা ইখলাস, সুরা নাস, সুরা ফালাক ৩ বার করে পড়ে শরীরে ফুঁ দিয়ে ঘুমাবেন। তাছাড়া রাতে আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমালে একজন ফেরেশতা সারারাত পাহারা দিতে থাকে। 


৯) হস্তমৈথুন না করা:

হস্তমৈথুনের মতো বদ অভ্যাস থাকলে দ্রুত পরিহার করুন। এটা আপনার জীবন যৌবনকে একেবারে ধ্বংস করে দিবে। বান্ধবীকে নিয়ে যৌন কল্পনা করা থেকেও বিরত থাকুন। 


১০) খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন:

যাদের অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের সমস্যা রয়েছে তাদের খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন ঘুমানোর আগে ডিম কিংবা অম্লজাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা। শরীরের রক্তচাপ বেড়ে যায় এরকম খাবার খাওয়া থেকে রাতে বিরত থাকতে হবে। 


১১) কাত হয়ে ঘুমানো: 

নরম বিছানায় রাতে উপুড় হয়ে ঘুমাবেন না। স্বপ্নদোষের আরেকটি কারণ হলো উপুড় হয়ে ঘুমানো। লক্ষ্য রাখবেন শুয়ার সময় যৌনাঙ্গ যাতে কোনো জায়গায় ঘর্ষণ না লাগে। তাই কাত হয়ে ঘুমাবেন। চেষ্টা করবেন ডান কাতে ঘুমাতে


১২) টেস্টোস্টেরন:

অনেক সময় দেখা যায় টেস্টোস্টেরন সমৃদ্ধ ঔষধ গ্রহনের ফলে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষের স্বপ্নদোষের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে কিছু সংখ্যক নারী ও পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে তাদের স্বপ্নদোষের মাত্রাও ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে গিয়ে ৯০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। 


এইগুলোই হলো মূলত স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির উপায়এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে খুব সহজেই অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ থেকে সম্পূর্ণ রেহাই পাওয়া সম্ভব। এখন আলোচনা করব অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের ঔষধ সম্পর্কে। তো চলুন

 

অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের ঔষধ:

 

 উপরোল্লেখিত স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির উপায় গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করার পরও যদি  স্বপ্নদোষজনিত সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে একজন সেক্সোলজিস্ট ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। ডাক্তারের কাছে গিয়ে স্বপ্নদোষের বিবরণ বললেই উনি বুঝে যাবেন। আপনি চাইলে ভেষজ চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। তবে এইসব ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা খুব ভালো কাজ করে। 


অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের ঔষধ হিসেবে জারনাইড   বহুল ব্যবহৃত এবং খুবই কার্যকর। এটি সম্পূর্ণ প্বার্শপ্রতিক্রিয়াহীন হামদর্দের একটি প্রোডাক্ট। এটি পুরুষাঙ্গের দুর্বলতা ও অতিসংবেদনশীলতা দূর করে। যাদের প্রত্যেক মাসে মাত্রাতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হয়ে থাকে তাদের জন্য এটি সেবনে চমৎকার ফলাফল পাওয়া যায়। অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের পাশাপাশি এটি শুক্রমেহ, প্রশ্রাবের জ্বালা যন্ত্রনা দূর করিয়া পুরুষের সাধারণ যৌন দূর্বলতাও দূর করিয়া থাকে। তবে সেবন করার আগে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করিতে হইবে। 


আপনি যদি অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের ঔষধ খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন তাহলে একটা কৌশল অবলম্বন করে স্বপ্নদোষ দূর করতে পারবেন। সেটা হচ্ছে প্রাকৃতিক উপায়ে হোক কিংবা ঘরোয়া উপায়ে হোক যে কোনো ভাবে আপনি যদি আপনার বীর্যের ঘনত্ব বাড়াতে পারেন তাহলে অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ এমনিতেই চলে যাবে। 


স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে এতক্ষণ যা কিছু আলোচনা করা হলো সবকিছুই বিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ তথ্যের আলোকে। আশা করি সম্পূর্ণ পোস্টটি ভাল লেগেছে এবং লেখাটি পড়ে স্বপ্নদোষ থেকে মুক্তির উপায় ও অতিরিক্ত স্বপ্নদোষের ঔষধ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেছেন। অনেকেই স্বপ্নদোষকে মারাত্মক রোগ মনে করে বিচলিত হয়ে পড়েন। তাদের এই অজ্ঞতার সুযোগ নেন একধরনের অসাধু ফুটপাত ক্যানভাসার। তারা স্বপ্নদোষের মারাত্মক কুফল বর্ণনা করে মানুষের ভিতর ভয় ঢুকিয়ে দেয়। এভাবেই হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। এদের ফাঁদে পড়ে নিজের যৌবনের বারোটা বাজাবেন না। 



Next Post